সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় পথে ঘাটে দেখা হচ্ছে কত মনে রাখার মত মানুষের সাথে, কানে এসে পড়ছে তাদের কথাবার্তা। এরকম ভাবেই সেদিন আমায় রাতে অফিস পৌঁছে দিলেন কর্মরত এক ড্রাইভার।
মনে রাখার মত একজন মানুষ।
বলে গেলেন অনেক কথা। কিছুটা মনে রাখলাম, আর আমার ভঙ্গুর স্মৃতি ভুলিয়ে দিল বেশিরভাগ আলাপচারিতাকে।
"ছেলের জন্মদিন ছিল স্যর। সেদিন পকেটে ১৫০ টাকার মত। কী করলাম জানেন? ছেলেকে বুঝতে দিই নি কিন্তু। চলে গেলাম, ওই যে কামালগাজীর কাছে নতুন ব্রিজটা হয়েছে না?..."
"হ্যাঁ "
"ওখানে। Roadside ধাবা আছে একটা। কী taste ওখানের খাওয়ারের সেটা আপনি না খেলে, ও আপনাকে, বোঝানো যাবে না। আমি, আমার wife আর ছেলে। তিনটে মোগলাই নিলাম। ওই ১২০ টাকার মত পরল বুঝলেন। তারপর বেরিয়ে নিলাম তিনটে কোল্ড-ড্রিঙ্কস্। ব্যস। ওই ধরুন ১৬০ এর মধ্যে নেমে গেল, কুড়িয়ে-টুড়িয়ে, আর কী!" ... "আসলে enjoy করার মন থাকলে না স্যর, কিছু দরকার হয় না আর, কি তাই না?"
সোজা কথা এতটা সোজা ভাবে শুনে আমি বিনম্র হেসে ফেলি।
উনার কাছেই জানতে পারে কালোজিরে ফোড়ন দিয়ে ডিমের ডালনা বানানোর পদ্ধতি। "ঝোল তিন রকমের হয় স্যর, জানেন তো? একটা হোল মাছের ঝোল যেরকম। আর গ্রেভি একটা - ঘন একেবারে। আর এই ডালনার ব্যপারটা হচ্ছে মাঝামাঝি, গা-মাখা গা-মাখা হবে।"
"কী করে বানান এটা?"
"আসলে কাঠের চুল্লি হলে ভালো হয়, বুঝলেন কি না। গ্যাসে কী হয়, নিচের দিকে একটা জা'গায় তাপটা লাগে। আর কাঠে রান্নার স্বাদই আলাদা, চার দিক থেকে তাপ এসে পড়ছে। যা হোক, ওই আপনি, তেলে কটা কালোজিরে আর দুটো কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দেবেন। ফ্লেভার আসবে। তারপর পেঁয়াজ। তারপর আলু দিলেন। একটু সাঁতলে নেবেন। তারপরে টমেটো। নুন দিলেন ; অল্প হলুদ দেবেন না হলে ডিমগুলো আবার দেখতে বাজে লাগবে পরে । কাঁচা লঙ্কাও দিতে পারেন, যতটা spicy খান আপনি। ব্যস, এ-এ-একটু জল। জলটা একটু টেনে এলেই ডিমগুলো দিয়ে দেবেন। ব্যস"
বানানো হয়েছিল, সত্যিই অপূর্ব।
আরো জেনে নিলাম যে Quest mall এর পাশের গলিতেই আদিলের বিরিয়ানী, উনার মতে কোলকাতায় street side বিরিয়ানীর দোকানগুলোর মধ্যে সেরা। খেলাম ; চমৎকার। এছাড়া বৈষ্ণবঘাটা বাসস্টপের পাশের গলিতে ভানু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের রসগোল্লা। আহা।
ধন্যবাদ আপনাকে - আমার রাতকে রংমহল করে তোলার জন্যে, আমার ছুটির দুটো দিন আনন্দে ভরে দেওয়ার জন্যে। পরদিন সকালে ইউনিটেকেও পাখির আওয়াজ শুনতে দিলেন আপনি।
ভালো থাকবেন।
No comments:
Post a Comment