Sunday, 24 April 2016

হরিদ্বারের ডায়েরী - ২

এয়ার ইন্ডিয়া ২১ নম্বর বিমানে করে আসতে আসতে দেখছিলাম বাদশাহী আংটি। কিছুটা দেখার পরেই কাকতালীয় ভাবে বোঝা গেল যে, সিনেমাটি এই যাত্রার পক্ষে সত্যিই উপযুক্ত। সিনেমার অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে হরিদ্বার এবং তার প্রতিবেশী জায়গার রেফারেন্স – হরিদ্বার, লক্ষ্মণঝোলা, রামঝোলার কথা। এছাড়া ছবিতে রয়েছে হৃষীকেশের পথে পড়ে থাকা সেই জঙ্গল যেখানে ছবির ক্লাইম্যাক্সের চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে। তবে তার চেয়েও দরকারী একটা রেফারেন্স আছে এই সিনেমাতে – গঙ্গাকে নিয়ে একটা one-liner.  একটু ভালোভাবে লক্ষ করলেই বোঝা যাবে, গঙ্গা কীভাবে এক এক জায়গায় বদলে ফেলেছে তার গতি, রঙ এবং চালচলনের নিজস্বতা ; হরিদ্বারে এক, হৃষীকেশে এক, লক্ষণঝোলায় একবারে আলাদা।
বিমান অবতরণের পর রেলস্টেশন অবধি যাত্রাও ছিল বেশ আরামদায়ক। বোধিসত্ব বলেই দিয়েছিল, ‘এয়ার ইন্ডিয়ায় যাচ্ছিস তো? ৩নং টার্মিনালে নামাবে। পাশের বিল্ডিংটাই মেট্রোর।  It is even connected. Quite convenient.’ সত্যিই তাই। খুঁজে পাওয়া সোজা, পৌঁছে যাওয়াও। দিল্লীর মেট্রো বেশ খরচার ব্যপার, তবে অনেকবেশী ঝকঝকে। সবচেয়ে মজার ব্যপার হল – প্ল্যাটফর্ম আর রেললাইনের মাঝে রয়েছে transparent দরজা। ট্রেন এসে দাঁড়ালেই দরজা খুলবে। Frustration ফেলতে যখন তখন লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়বে কলকাতার মত... হু হু বাবা। সে পথ বন্ধ।
T3 সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নামই এয়ারপোর্ট।দ্বারকা সেক্টর ২১ থেকে আসা এই মেট্রো দিল্লী aero-city, ধৌলা কুয়া, শিবাজী স্টেডিয়াম পেরিয়ে চলে এসেছে নতুন দিল্লীতে। রাস্তা পেরোলেই রেল স্টেশন। ২০ মিনিট মত লাগে।
নিরস যাত্রার বর্ণনা পেরিয়ে এবার আসল কথায় আসা যাক।  ভোর সাড়ে পাঁচটায় বেড়িয়ে দেখলাম হর কী পোড়ীর ঘাটের ওপর ধীরে ধীরে গা এলিয়ে দিচ্ছে সকালের সন্তান। তার পেলব আলোর চাদর জড়িয়ে গঙ্গায় নেমে পড়ছেন বেশ কিছু মানুষ। “গঙ্গা জী” এবং তাঁর এই জলপ্রবাহের সাথে আমাদের আত্মীয়তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পেরিয়ে। অথচ, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে গঙ্গার জলদূষণের পেছনে রয়েছে এই ধর্মের আর আত্মীয়তার থাবা। যে ধর্ম বিশ্বাস করে গঙ্গার জলেই আছে, শুদ্ধকারী এক মায়াবী ক্ষমতা, সেই ধর্মই শেষ করে দেবে এই মাতৃদুগ্ধ?
আরেকটু পরেই একটা সুস্থ সকাল ছড়িয়ে গেল সমস্তট জুড়ে। চলেছি লক্ষণঝোলা। তারপর সেখান থেকে ছোটবেলার পথ, সেতুর কাঁপুনি। এখনও এদিকে Jumpin পাওয়া যায়, Frooti র বিকল্প হিসেবে। সেই কবে খেয়েছিলাম। হেঁটে হেঁটে গীতাভবন, রামঝোলা থেকে নৌকো করে গঙ্গা পেরোতে থাকি আর ভাবি – এবার হল না। পরের বার এখানে এসে থাকব আর জমিয়ে Jumpin খেতে হবে।

(ক্রমশঃ)

No comments:

Post a Comment