Thursday, 28 April 2016

হরিদ্বারের ডায়েরী -৪

এমনিতেই আমার স্মৃতির ওপর আমার নিজেরই ভরসা নেই কোনকালেই। তাই সকালে যখন বাবা বলল, “মুসৌরী তো যাওয়াই হয়। একটা নতুন জায়গায় চল এবার, দেবপ্রয়াগ”, আমি আর আপত্তি করি নি। শুধু জানতে চেয়েছিলাম, “ওটাও কি পাহাড়?”
“অবশ্যই। নীচে দুই নদীর সঙ্গম, যেমন হয়।”
মনের খুঁতখুঁত ভাবটা যায় নি। ধর্মের কড়া গন্ধ আসছে জায়গাটা থেকে। আর যেকোন জায়গা শুধু পুণ্যস্থল বলে পরিচিত বলে তা ঘুরতে যাওয়ায় আমার বেশ আপত্তি।
এখানে একটা স্ববিরোধ কাজ করছে হয়ত। হরিদ্বারও তাই। তবে হরিদ্বারে আসা আমার পুণ্য কিনতে নয়, সেটা প্রথমেই বোধহয় পরিষ্কার করেছি। হরিদ্বারের কাছে আমার আসা স্মৃতির ডাকে, রোমন্থনলিপ্সায়, আর জায়গাগুলোর একটা revision করার প্রচন্ড ইচ্ছের তাড়নায়।
সকাল ৮টায় বেড়িয়ে পেরিয়ে এলাম পরিচিত রামঝোলা, লক্ষণঝোলা। তারপর পথে পথে আমি খুজছিলাম চমককে, যেমন সব সময়ই খুঁজে থাকি। আর তখনই হঠাৎ ড্রাইভারের একটা কথায় চমক ভাঙল আমার। “চারধাম যাওয়ার পথে দেবপ্রয়াগ দেখেছেন নিশ্চই, দাদা।
আরে! তাই তো। নামটা এবার একটু বেশি চেনাচেনা লাগছে মনে হচ্ছে। কিন্তু তাও মনে করতে পারছি না তো। মোহভঙ্গ হল আরেকটু পরে। লক্ষণঝোলা কখন পেরিয়ে এসেছি। পাহাড়ী পথ ঠিকই, কিন্তু এত রুক্ষ? গরম লাগছে তো এবার। আর পথে পথে পাথর ছড়ানো। ধুলো এসে মিশে যাচ্ছে অযত্ন চুলে। জায়গার কাছাকাছি পৌঁছে ‘তিনধারা’ নামটা দেখেই মনে পড়ল, ঠিক। এখানে আগে এসেছিলাম তো। তিনটে ধারার মিলনের একটা রেফারেন্স আছে জায়গাটায়, সেটা আগেরবার শুনেছিলাম। এবার মনে পড়ছে না। ভুল যে করছি না, সেটা বুঝতে পারলাম যখন দেখলাম পাহাড় ফুঁড়ে বিশাল মহাদেব সটান দাঁড়িয়ে আছেন। হ্যাঁ। আগেরবার এখানেই ব্রেকফাস্ট হয়েছিল।
দেবপ্রয়াগ যাওয়া এই যাত্রার একমাত্র ভুল বা না বলার মত একটা ছোট অধ্যায়। ভাগীরথী আর অলকানন্দার সংগমস্থলে আমি কোন আশ্চর্যের দেখা পাই নি।
তোমাকে বলেছি আগেও শতদ্রু, গতি কী মারাত্মক। তুমি তো আমার চেয়ে আরও অনেক দূর অবধি দেখতে পাও। তুমি দেখলে আরও ভালো বোঝাতে পারতে হয়তো, গঙ্গার এই উৎসারণ ইতিহাসে অবদান রাখা নদীদের গায়ে গঙ্গার গন্ধ একেবারেই নেই। এরা নদী। এরা আমি, আমার মতো আরও অনেকে। আর গঙ্গা হচ্ছে একটা আস্ত তুমি, একজন শতদ্রু। এমনকি তুমি গঙ্গার শাখা নদীদের কাছে যাও। তারা নদী, শুধুই প্রবাহ মাত্র। প্রবাহের জল থাকে, গতি থাকে, প্রাকৃতিক নিয়মে বয়ে যাওয়ার একটা বাধ্যবাধকতা থাকে। এই ধর আমাকে সকালে উঠতে হয়। আমার অফিসের প্রয়োজন অনুযায়ী physiological clock কে দম দিতে হয়। আমি খাই, স্নান করি। আমি কথা বলতে ভালোবাসি, পারি না যদিও। আমাকে বাজার যেতে হয়, মাসের শেষে একটা ইলেকট্রিক বিল জমা দিতে হয়। এসব আরও কতবার বলেছি তোমাকে। সবই সামাজিক বা প্রাকৃতিক নিয়মে। আমি কোন শতদ্রু হতে পারব না। আমার বুকে গঙ্গা নেই, অলকানন্দা আছে। সেরকমই এরা। এরা প্রবাহিত হয়, স্বতন্ত্র হতে পারবে না কোনদিন। আর গঙ্গা?
গঙ্গা মানে তো অনেককিছু। অনেকটা জুড়ে থাকা, জড়িয়ে থাকার অন্তহীন আশ্বাস। না হলে বল, এত খরচ, এত আয়োজন, এত পরিশ্রম ‘নষ্ট’ করে শুধু শুধু লোকেরা এত এত এত প্রজন্ম পেরিয়ে কীসের জন্যে জমায়েত হয় হর কী পোড়ী বা দশাশ্বমেধ ঘাটে? কারণ আছে। নদীমাতৃক দেশ শব্দটা আমরা একসাথে স্কুলে পড়েছিলাম না? তখন ক্লাস ফোর। তুমি আমার বুকে একটা খোঁচা মেরে জিগ্যেস করেছিলা, “এই, এটার মানে কী রে?” আমি দিদিভাইকে জিগ্যেস করায় উনি আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু আমরা কেউই বুঝি নি। ওই বয়সে নদী আর মা – এই দুটো কীভাবে জড়িয়ে যেতে পারে একসাথে...আমাদের বোঝার ক্ষমতা ছিল না, শতদ্রু। আমরা মা কে চিনতাম, কিন্তু মা যে কেন মা-ই সেটা তো এত বছর পেড়িয়েও বুঝতে অসুবিধে থেকেই গেল। আর নদী কীভাবে মা হতে পারবে বল তো ওই বয়সে?
হরিদ্বার শুধু নয়, গঙ্গার ধারে এলেই শুনতে পাই মা-ডাক, ছেলের জন্যে বসে থাকা এক নিরুপায় বোবা মায়ের ফুঁসে ওঠা শ্বাস। আমি নয়। আমি নিশ্চিত যে এঁরাও শুনতে পান। তাই তো গঙ্গা বলেন না এঁরা, বলেন “গঙ্গা মাঈ” কিংবা “গঙ্গা জী”। অলকানন্দার তীরে দাঁড়িয়ে আমার ড্রাইভার তো এই কথাই স্বীকার করলেন। বললেন, হরিদ্বারে গঙ্গা দেখার পর কেউ কেন দেবপ্রয়াগ আসবে? এখানে মা কোথায়?
মা নেই এখানে শতদ্রু। তাই সন্ধ্যে নেমে গেলেই হরিদ্বার ফিরে মায়ের কাছে যাব। চোখ বন্ধ করে যদি কিছু মায়ের গলা শোনা যায় দৈবাৎ। আজ ফিরছি। কাল আবার কথা হবে।
ভালো থেকো।
( ডায়েরী এখানেই শেষ। পরবর্তী পর্ব “হরিদ্বারের চিঠি” যার এখান থেকেই শুরু)

হরিদ্বারের ডায়েরী - ৩

কাল রামঝোলা থেকে গীতাভবন হয়ে ফেরার পথে আবিষ্কার করলাম ছোটবেলার সেই রেস্তোরাঁকে, যার সামনে দাঁড়িয়ে লাফিং বুদ্ধ দেখে যারপরনাই অবাক হয়েছিলাম। তবে সাথে সাথে একটা ভুল ঠিক করার অবকাশ পাওয়া গেল। লাফিং বুদ্ধ নন, ইনি ছোটিওয়ালা। হরিদ্বার সংলগ্ন অনেক এলাকাতেই ইনি মেলে দিয়েছেন শাখা। হর কী পোড়ী শাখাতে তো ইনি নেহাৎ মূর্তি নন, বসে আছেন এঁর মানসপ্রতিমার জলজ্যান্ত রূপ। এঁর ইতিহাস সত্যই আমার জানা নেই।
পরশু ট্রেনে করে আসার সময়, আরেকবার আশ্চর্যের দেখা পেয়েছিলাম, বলা হয়নি আগে। বছর ৫-৬ এর একটি মেয়ে দিল্লী থেকে হরিদ্বার, প্রায় সাড়ে চার ঘন্টার রাস্তা, দিব্যি একটা বই নিয়ে কাটিয়ে দিল। আমার পাশেও ছিল বই। আমি কিন্তু পারি নি। কিছুটা ঘুমেল চোখে, কিছুটা জানলার বাইরে ক্ষেত, অযত্নে তৈরি বাড়ি আর উত্তরপ্রদেশের গ্রাম-শহর নির্বিশেষে অপরিষ্কার অঞ্চল দেখে স্রেফ কাটিয়ে দিলাম। জানতে পারলাম, মেয়েটির বাড়ি হরিদ্বারের বিবেক বিহার অঞ্চলে। সে mount litera zee school হরিদ্বারের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। ঝরঝরে ইংরেজী, মাতৃভাষার প্রভাব মুক্ত সে বর্ণনা। তার প্রপিতামহ যখন তাকে জিজ্ঞেস করল যে বড় হয়ে সে কী হতে চায়, তার উত্তরে সে যা বলল সেটা শুনে আমি অবাকমুগ্ধ। সে এমন এক ব্যবস্থা আবিষ্কার করতে চায় যা মানুষ এবং পশুপাখিদের সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। ব্যবস্থা আবিষ্কার...রোমহর্ষক! এক অসম্ভব ভালো দর্শন সে খুঁজে পেয়েছে এই বয়সেই। একি তাকে কেউ সত্যিই শিখিয়ে দিয়েছে বলার জন্যে? জানি না। বড় হয়েও সে এরকম ভাবতে পারবে? আরেক অঙ্কনা হয়ে যাবে না তো? সত্যিই জানা নেই আমার। তবে থাক তুই এরকমই। এই প্রথমবার আমি একজনের দেখা পেলাম যে আমার ছোটবেলার দর্শনের গণ্ডীকেও অনেকাংশে ছাপিয়ে গিয়েছে।
অবাক করলেন হৃষীকেশ থেকে হরিদ্বারের পথে অটোচালক একইভাবে। রাস্তার একধারে ডাঁই করা আছে সমস্ত জঞ্জাল। এত খাবার। গরু, অন্য অনেক পশু, পাখী আর কিছু কুকুর তার কাছে ঘুরছে কিন্তু বোঝা যাচ্ছে যে তারা মন থেকে এ খাবার খিদে থাকলেও খেতে চায়না। আমার অটোচালক স্থানীয় হিন্দীতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার বললেন- “দেখছেন স্যর? বিয়েবাড়ির বেঁচে যাওয়া খাওয়ার। এমন খাওয়ার আজকাল বানায় এরা...মশলার ঝাঁঝে জানোয়ারেরাও মুখে দিচ্ছে না।“ উত্তর ভারতের অনেক জায়গাতেই খাবার এরকম মশলাদার। সেখানে এক প্রান্তিক মানুষের এরকম প্রতিস্পর্ধী উচ্চারণ? তারপর বললেন, “বিকাশ কোথায় হচ্ছে স্যর? এখন জানোয়ারেরাও আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বিকশিত। বিকাশতো মানুষেরই খুব দরকার”
তাজ্জব বনে গেছি। Shaw সাহেবের Superman concept এর একটা সম্পূর্ণ antithesis ভদ্রলোক চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন। উন্নয়ন? ভাবনার বিকাশ? ছ্যা ছ্যা। হাস্যকর। “হাস্যকর তোমার অতীত, হাস্যকর তোমার ভবিষ্যৎ”। তুমি পেছনের দিকে এগিয়ে চলেছ!
( ক্রমশ : )

Sunday, 24 April 2016

হরিদ্বারের ডায়েরী - ২

এয়ার ইন্ডিয়া ২১ নম্বর বিমানে করে আসতে আসতে দেখছিলাম বাদশাহী আংটি। কিছুটা দেখার পরেই কাকতালীয় ভাবে বোঝা গেল যে, সিনেমাটি এই যাত্রার পক্ষে সত্যিই উপযুক্ত। সিনেমার অনেকটা অংশ জুড়ে রয়েছে হরিদ্বার এবং তার প্রতিবেশী জায়গার রেফারেন্স – হরিদ্বার, লক্ষ্মণঝোলা, রামঝোলার কথা। এছাড়া ছবিতে রয়েছে হৃষীকেশের পথে পড়ে থাকা সেই জঙ্গল যেখানে ছবির ক্লাইম্যাক্সের চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে। তবে তার চেয়েও দরকারী একটা রেফারেন্স আছে এই সিনেমাতে – গঙ্গাকে নিয়ে একটা one-liner.  একটু ভালোভাবে লক্ষ করলেই বোঝা যাবে, গঙ্গা কীভাবে এক এক জায়গায় বদলে ফেলেছে তার গতি, রঙ এবং চালচলনের নিজস্বতা ; হরিদ্বারে এক, হৃষীকেশে এক, লক্ষণঝোলায় একবারে আলাদা।
বিমান অবতরণের পর রেলস্টেশন অবধি যাত্রাও ছিল বেশ আরামদায়ক। বোধিসত্ব বলেই দিয়েছিল, ‘এয়ার ইন্ডিয়ায় যাচ্ছিস তো? ৩নং টার্মিনালে নামাবে। পাশের বিল্ডিংটাই মেট্রোর।  It is even connected. Quite convenient.’ সত্যিই তাই। খুঁজে পাওয়া সোজা, পৌঁছে যাওয়াও। দিল্লীর মেট্রো বেশ খরচার ব্যপার, তবে অনেকবেশী ঝকঝকে। সবচেয়ে মজার ব্যপার হল – প্ল্যাটফর্ম আর রেললাইনের মাঝে রয়েছে transparent দরজা। ট্রেন এসে দাঁড়ালেই দরজা খুলবে। Frustration ফেলতে যখন তখন লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়বে কলকাতার মত... হু হু বাবা। সে পথ বন্ধ।
T3 সংলগ্ন মেট্রো স্টেশনের নামই এয়ারপোর্ট।দ্বারকা সেক্টর ২১ থেকে আসা এই মেট্রো দিল্লী aero-city, ধৌলা কুয়া, শিবাজী স্টেডিয়াম পেরিয়ে চলে এসেছে নতুন দিল্লীতে। রাস্তা পেরোলেই রেল স্টেশন। ২০ মিনিট মত লাগে।
নিরস যাত্রার বর্ণনা পেরিয়ে এবার আসল কথায় আসা যাক।  ভোর সাড়ে পাঁচটায় বেড়িয়ে দেখলাম হর কী পোড়ীর ঘাটের ওপর ধীরে ধীরে গা এলিয়ে দিচ্ছে সকালের সন্তান। তার পেলব আলোর চাদর জড়িয়ে গঙ্গায় নেমে পড়ছেন বেশ কিছু মানুষ। “গঙ্গা জী” এবং তাঁর এই জলপ্রবাহের সাথে আমাদের আত্মীয়তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পেরিয়ে। অথচ, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে গঙ্গার জলদূষণের পেছনে রয়েছে এই ধর্মের আর আত্মীয়তার থাবা। যে ধর্ম বিশ্বাস করে গঙ্গার জলেই আছে, শুদ্ধকারী এক মায়াবী ক্ষমতা, সেই ধর্মই শেষ করে দেবে এই মাতৃদুগ্ধ?
আরেকটু পরেই একটা সুস্থ সকাল ছড়িয়ে গেল সমস্তট জুড়ে। চলেছি লক্ষণঝোলা। তারপর সেখান থেকে ছোটবেলার পথ, সেতুর কাঁপুনি। এখনও এদিকে Jumpin পাওয়া যায়, Frooti র বিকল্প হিসেবে। সেই কবে খেয়েছিলাম। হেঁটে হেঁটে গীতাভবন, রামঝোলা থেকে নৌকো করে গঙ্গা পেরোতে থাকি আর ভাবি – এবার হল না। পরের বার এখানে এসে থাকব আর জমিয়ে Jumpin খেতে হবে।

(ক্রমশঃ)

Saturday, 23 April 2016

পাখি

সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। রাস্তায় পথে ঘাটে দেখা হচ্ছে কত মনে রাখার মত মানুষের সাথে, কানে এসে পড়ছে তাদের কথাবার্তা। এরকম ভাবেই সেদিন আমায় রাতে অফিস পৌঁছে দিলেন কর্মরত এক ড্রাইভার।
মনে রাখার মত একজন মানুষ।
বলে গেলেন অনেক কথা। কিছুটা মনে রাখলাম, আর আমার ভঙ্গুর স্মৃতি ভুলিয়ে দিল বেশিরভাগ আলাপচারিতাকে।
"ছেলের জন্মদিন ছিল স্যর। সেদিন পকেটে ১৫০ টাকার মত। কী করলাম জানেন? ছেলেকে বুঝতে দিই নি কিন্তু। চলে গেলাম, ওই যে কামালগাজীর কাছে নতুন ব্রিজটা হয়েছে না?..." "হ্যাঁ " "ওখানে। Roadside ধাবা আছে একটা। কী taste ওখানের খাওয়ারের সেটা আপনি না খেলে, ও আপনাকে, বোঝানো যাবে না। আমি, আমার wife আর ছেলে। তিনটে মোগলাই নিলাম। ওই ১২০ টাকার মত পরল বুঝলেন। তারপর বেরিয়ে নিলাম তিনটে কোল্ড-ড্রিঙ্কস্‌। ব্যস। ওই ধরুন ১৬০ এর মধ্যে নেমে গেল, কুড়িয়ে-টুড়িয়ে, আর কী!" ... "আসলে enjoy করার মন থাকলে না স্যর, কিছু দরকার হয় না আর, কি তাই না?"
সোজা কথা এতটা সোজা ভাবে শুনে আমি বিনম্র হেসে ফেলি।
উনার কাছেই জানতে পারে কালোজিরে ফোড়ন দিয়ে ডিমের ডালনা বানানোর পদ্ধতি। "ঝোল তিন রকমের হয় স্যর, জানেন তো? একটা হোল মাছের ঝোল যেরকম। আর গ্রেভি একটা - ঘন একেবারে। আর এই ডালনার ব্যপারটা হচ্ছে মাঝামাঝি, গা-মাখা গা-মাখা হবে।" "কী করে বানান এটা?" "আসলে কাঠের চুল্লি হলে ভালো হয়, বুঝলেন কি না। গ্যাসে কী হয়, নিচের দিকে একটা জা'গায় তাপটা লাগে। আর কাঠে রান্নার স্বাদই আলাদা, চার দিক থেকে তাপ এসে পড়ছে। যা হোক, ওই আপনি, তেলে কটা কালোজিরে আর দুটো কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দেবেন। ফ্লেভার আসবে। তারপর পেঁয়াজ। তারপর আলু দিলেন। একটু সাঁতলে নেবেন। তারপরে টমেটো। নুন দিলেন ; অল্প হলুদ দেবেন না হলে ডিমগুলো আবার দেখতে বাজে লাগবে পরে । কাঁচা লঙ্কাও দিতে পারেন, যতটা spicy খান আপনি। ব্যস, এ-এ-একটু জল। জলটা একটু টেনে এলেই ডিমগুলো দিয়ে দেবেন। ব্যস" বানানো হয়েছিল, সত্যিই অপূর্ব।
আরো জেনে নিলাম যে Quest mall এর পাশের গলিতেই আদিলের বিরিয়ানী, উনার মতে কোলকাতায় street side বিরিয়ানীর দোকানগুলোর মধ্যে সেরা। খেলাম ; চমৎকার। এছাড়া বৈষ্ণবঘাটা বাসস্টপের পাশের গলিতে ভানু মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের রসগোল্লা। আহা।
ধন্যবাদ আপনাকে - আমার রাতকে রংমহল করে তোলার জন্যে, আমার ছুটির দুটো দিন আনন্দে ভরে দেওয়ার জন্যে। পরদিন সকালে ইউনিটেকেও পাখির আওয়াজ শুনতে দিলেন আপনি।
ভালো থাকবেন।

Look Back in Reverence

Beneath the last trace of a jaundiced eye
Under the torpor
Of wilting wee hours,
I found some moribund trees.
Leaves trailing in a susurrus trance,
Like a frail man, struggling hard with his memories
To recreate the past, the ecstasy,
Quiet-forgotten jubilance.

Your eyes are trailing back,
Old faces turn anew.
None can hinder the ‘widening gyre’
That revolves a future with lofty glance
A pursuit for ‘immemorial glories’, still
‘Long-famous shames’, unsavoury pasts!

[Is it all I remember?
Is it what I craved for?
Waking up in a homely bed, caressing
The daylight in blindness
With a pristine, monastic delight?]

Winter was at its best,
So has been the summer.
A fetid monsoon gives way to
Another vernal gloom.

But hold! Still shines the light,
More grace I gathered, less is the hour of repent,
Now all these compounds,
Combusts
        Constitutes,
                     And finally,
                                     Are concentrated into a gushing waterfall on sterile pebbles…

Now here I stand,
You and I,
“When the evening is spread upon the sky”
Like an Erect tree, rejuvenated in fertile pebbles;
Ever the best with Hope,
Ever the best with Mercy,
Ever drenched in Eternal Forgiveness.

বৈঠকি

সারা সকাল জুড়ে বৈঠকি মেজাজ। হবেই তো। আজ পয়লা বৈশাখ। তাই যাদের দিনগুলো থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছে একেকটা সকাল, আর অন্যদিনের মতই, তাদের মাথাতেও চাপল এমন ভূত? কার উদ্যোগে? কার উদ্যমে?
না, ব্যপারটা তাহলে গোড়া থেকেই বলি।
অ্যাক্সেঞ্চারে ঢোকার পর থেকেই আমি ছুটির দুটো দিন একটু অন্যভাবে কাটানোর চেষ্টা করি। নিজেকে সবসময় আশ্বাস দিতে থাকি যে, ছুটি কাটানোটাও একটা আর্ট, একটা জীবনশিল্পের 'ভোলা-বাহুল্য' অংশ। গতকাল বুয়া (অর্থাৎ আমার পিসি) বলছিল সকালে একটু মাংস আনার কথা। যে বাড়ির পরতে পরতে এখনও জড়িয়ে আছে শুদ্ধ বাংলা বলার চল, বাংলা গান, কবিতা, বইয়ের গল্প, কিংবা অযাচিত ভাবে ঢুকে পড়া বাংলা সুপার-ডূপার মেগা সিরিয়ালের শাসন , সে বাড়িতে বাংলা বছরের প্রথম দিনে একটু পোলাও, পায়েস, মাংস – এসব হবেনা, তা হয় না কি? তাই ভেবেছিলাম, পিসি না বললেও আনতে হবেই আজ একটু বাসন্তী পোলাও, ভেটকি পাতুরী – এসব। কলকাতায় আজকাল ভুলে যাওয়া বাঙ্গালীয়ানা ভেজা ‘জিভ-উত্তেজক’ খাবারকে কর্পোরেট মোড়কে available করেছে নানা রেস্তোরাঁ। মন্দ কি? গড়ে উঠেছে কৃত্রিম গ্রাম, লুচি- ছোলার ডালের সাথে ওয়াইনের মৌতাত ভেজা গ্রামীন দোতলা বাড়ি। কড়ি ফেললেই, গ্রাম বাংলা কিংবা সত্তরের দশকের প্রায় বিস্মৃত বাংলা খাবার, পোশাক, গান – সবটাই পরিশ্রম বাদ দিয়ে মিলে যাবে হাতের কাছেই। একবারও প্রয়োজন পড়বেনা সেই সংস্কৃতির বা জীবনের কঠিন থেকে কঠিনতর মুহূর্তের মধ্যে বেঁচে থাকার।
তা যাই হোক, রাতে এসব নিয়েই ভাবছিলাম যখন, ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছিল উত্তেজনায়। আজ সারাদিন বই পড়ে কাটাব, নিজের ঘরে। জানলা দিয়ে দেখে নেব বন্ধু গাছের পাতা, রোদ, লুয়ের বিরুদ্ধে তার নিসস্পৃহ প্রতিবাদ। আমার সকালও কাটবে ওঁদের মত, কিন্ত বিলাস-মনে : দরজায় দাঁড়িয়ে, গ্রিলের ভেতর থেকে রাস্তার লোক দেখে, বিছানায়-বিছানায়, সোফাতে, খবরের কাগজে। বিকেলের পড়ন্ত আলো আমায় জানিয়ে দেবে ওঁদেরই মত, যে দিন চলে যাচ্ছে আরেকটা।

বাজারে বেড়িয়ে মুদিখানার দোকানটা পেরোতেই চোখে পড়ল সেই অভূতপূর্বকে। ক্লাবের মাঠের একধারে কিছু গাছ, তার পাশে একটা ছোট সিমেন্টের দাওয়ার মত বানানো। মাটি থেকে একটু উঁচু। ওপরে ছাদ। তার সামনে চেয়ার নিয়ে বসে আছেন যাঁরা, তাদের বেশিরভাগেরই বয়স ষাটোর্ধ্ব। চোখ পড়েনি প্রথমে। তবলার আওয়াজে চমক লাগল। একমনে শুনে যাচ্ছেন। কেউ গাইছেন কি? হবে হয়ত, তাই মনে হল।

আমার চোখের ক্ষমতার বাইরে সে বর্ণহীন মঞ্চ। আমার বোধ জানে না, এও হয়। মাইক নেই, তবুও ওঁরা শুনতে পাচ্ছেন। আমি কিন্তু পাচ্ছি না। অনেকের চোখ বয়সের ভারে ক্লান্ত, তবুও ওঁরা দেখতে পাচ্ছেন। আমি কিন্তু পাচ্ছি না। আমার চোখের সামনে তখন এক আকাশ অপূর্ব রোদ, এক কড়াই মাংসের সাথে গোবিন্দভোগ চালের পোলাওয়ের গন্ধ। সারা সকাল জুড়ে উৎসব বসেছে, বাজার বসেছে। বৈঠকি গানে গানে...

Midnight in Paris, Film Review

“The past is always carried to the present by small things”- Ondaatje succinctly suggests in one of his remarkable works, Divisadero. It is quite truly so, if someone starts to recreate the past through some petty vestiges and regard the present as an ‘insurmountable problem’. Such is the opinion of the protagonist of Midnight in Paris, Gil Pender whereas his idols-turned-friends of past like Bunuel, Dali and the others have their own voice of arts, they are into.
The film winds up when Gil, an American screenwriter comes to visit Paris, his Utopia of artistic manifestation with his fiancée Inez and her parents. They incidentally come across Inez’s friend Paul and Gil immediately considers him to be a pseudo-intellectual fellow who tries to prove his authority over art. Being aware of Gil’s obsession about Paris is 1920s Paul disregards it as a romantic fallacy, ‘golden-age thinking’. The conflict starts to brew quite subtly as in every possible occasion irrespective of having sufficient knowledge over the subject or not Gil attempts to counterpoint Paul. Later on, it becomes utmost tangible how this couple lacks compatibility due to lack of understanding each other’s stand; while Inez loves to enjoy the weekend with her friends, go for a dance with Paul, Gil finds it rather romantic to explore the Paris in midnight, in rain and in the aura of the past. Thus in one night after being drunk an antique car pulls him up and thereby he journeys back to the past and meets the Fitzgerald’s, Ernest Hemmingway et al. The next morning though returns back in 2010, this stupefying series continues thereon. In his nocturnal escapade he meets authors, critic, painter, musicians, film-maker who once chose on their volition to practise ‘exile’ or used to live in Paris to vent their artistic instinct. He meets Picasso, his mistress Adriana, Bunuel, Dali, Eliot and many others. He submits his novel for criticism to Gertrude Stein, the famous art-critic.
Gradually, he comes to feel that he is not only in adoration with the age or its people but also in love with Adriana. His predicament intensifies as he is already betrothed to another woman from present but his love for the bygone days instigates his romantic emotions to be employed elsewhere, for another woman. Coming across a written book by Adriana, and getting it translated by a local guide, Gil suddenly in one morning comes to know that Adriana is also in love with him for his ‘unassuming’ personality which is ‘interesting in a lost way’. Making up his mind to propose her, Gil in the penultimate scene of the film, coming across the discourse of the people at “La Belle Époque” finds that even the members of this golden age are not satisfied with the time they live in and believe renaissance to be the ideal era. Adriana who also journeyed forward to meet Gil from 1890s to 1920s refuses to be there for the same reason and chose to be in her age. Much to his dismay Gil at last realizes how it is always better to live in the present despite its intricacies, dissatisfactions and odious life style. The film ends in an optimistic stand, Gil exploring the Paris in midnight, in rain, with Gabrielle, the girl from a curio-shop, who also shares some similar taste with him.
            Now, quite a number of things are to be pondered upon in the entire film. The crux of the conflict is familiar to anyone, interested in art and literature. But it is the treatment that draws considerable applause. The film has a lot of going for it as far the artistic quest for beauty, dreaming of the past and practising ‘exile’, as propounded by Joyce, but here, in one’s imaginary world are concerned. The unity of time is dexterously effaced and the politics of nostalgia is handled rather on a positive note. And this is particularly achieved by not only journeying back to the past without any tangible mechanism while being present with the acquaintances of the ‘present’, but also by the accurate prefabricated (or real?) sets, used in the film. The entire ambience exudes a French-feeling whenever the protagonist meets the people from the past, comes across their verbal exchanges, sometimes in French as well. This is handled quite sincerely as even the unawareness of French ethos does not hinder one’s enjoyment of the movie up to the hilt. The film effortlessly builds up a genial rapport between an aspiring creator and his idols and masters, with the identical discourses which in terms edifies him.
Owen Wilson is appropriate as bewildered Gil Pender, the artist and the lover. So is Marion Cotillard as Adriana. All the side characters, including the men of letters, proximate to their originality appropriately by their gestures, glances and intonation. Nothing can be said more about the director Woody Allen. He is an engaging story-teller, and this is again proved by his brilliant screenplay of the film. Music also accords with the time, age and people as it is that of pure classic and opera.
Still Midnight in Paris fails to evoke an ecstatic response due to some peccadilloes. The story is told in a quiet and constrained manner which the script demands but it is for this reason, the climax lacks a heightened speculation and is rather predictable. The treatment, though very novel, but at last has very little to offer. It is because of the theme is rather familiar, though rarely expressed in a full-length movie. Finally, I doubt had Adriana not refused to live in 1920s would it have been really possible for Gil to realize the wise truth? Love here accentuates an epiphany, but in the last scene we find him to set out probably in a new journey with another girl. His life is therefore a constant shift from one relationship to another; it marks him as a disoriented fellow but at the same time shows how pathetic character he is, torn between human relationship and artistic persuasion.
Rating (out of 10)
Acting- 6
Script -6.5,
Direction- 6.5
Music- 6
Technique -7
Overall- 6.5 (3/5)

If we speak loud

If we speak loud
Let our voice be music. A tone
That rings like heaven,and sings like murmurous
Wintry leaves that lie aloof,hopeless; neither shakes
Nor moves by sprinkling rain. Let our eyes
Stand,unshaken and firmly fixed in the look
Of a dead fish, moving around the globe.
It was meant to touch Cupid's arrow
Once shot,and gained,and proved
The worth of goal; not love,nor soul dwells
In such pursuit, so dearly-achieved.
But always,somewhere,some deadly desire winks
And speaks oblique.
Let our practised-love seek for it.
What else remains for us in the mundane multitude
Of eyes,that once faced the sun? And dared to die
In a sort of fit?

Dr. Faustus

Tonight
A face will peep
And peer from your window-panes.
When the night is coiled,like a serpent
And dreams are thick-
It will coo to your ears
On voices of unnumbered crowds,
Touching your eyes
Through its magic-wind and call you
In names,unheard-"Your days are numbered"
And still,
Motionless you lie on your ashes
Like Eliot's cigarette
When we call it a day;
You smell of the dizzy kisses
That once,
For once,,
Made you immortal
Dr. Faust

হরিদ্বারের ডায়েরী - ১

“আমার দিনের ওপর তুমি সবুজ হয়ে থাক , রাত থেকে অনুপম রাতে
তারাদের ঝিলমিলে অগণিত আলোকণা মাখ, বিকশিত কোন জ্যোৎস্নাতে।
কথা বল, শোন কথা গোপনীয়
চুম্বন চাও,
ফেলে রাখি রক্তিম ভালোবাসা
চুম্বন নাও।
অতলের বুকে চলে অগণিত মানুষের মেলা-সমাহার
ব্যবসা ও ধর্মের অপরূপে ডানা মেলে, হরের দুয়ার।”
এটা সম্ভবত লিখেছিলাম ২০০৯-এ। সেবার প্রায় ১২-১৩ বছর পর হরিদ্বারে আসা, অনেকটা সতেজ স্মৃতি-মেদুরতা নিয়ে। কিছুটা খারাপ লাগার স্মৃতি, কিছুটা বর্ণময়। তবে আরেকটা ব্যপারও ছিল – অঙ্কনা। তার কথায় পরে আসছি।
সেবার হরিদ্বার আসতে আসতে একটা অতীতকে টেনে টেনে, ঘসতে ঘসতে আনছিলাম। একটা বাজার। সরু গলি। আলো ঝলমলে সোনালি দোকান। ঠাসাঠাসি করে এগিয়ে চলেছে লোকজন। আর দুটো বছর পাঁচেকের ছেলে এগিয়ে যাচ্ছে। একজন ওই আলোর দোকান থেকে তার বাবার হাত টেনে, জামা টেনে আবদার করছে খেলনা নাগরদোলা কিনে দিতে, ভালুক কিনে দিতে, আরও কত কী। সেসব আজ আর মনেও পড়ে না। এই ছেলেটির বাবা-মা করে তুলছেন তাদের সাধ্যের মধ্যে ছেলেটির ইচ্ছাপূরণ।
আরেকটা ছেলে হাঁটছে ঘুমের মধ্যে। ঘুমের সময় হয়ে গেছে তার অনেকক্ষণ। তাই মাটির সাথে ঘষে ঘষে সে এগোচ্ছে। তবে তার আরেকটা কারণও আছে। আলো থেকে পালাতে চাইছে সে। আলোর দোকানমহল ক্রমশ অসহ্য হয়ে উঠেছে তার কাছে। কী হবে আলো দেখে? এর একটাও তো সে পাবে না। আর্থিক সঙ্গতি থাকা সত্যেও বাবা-মায়ের অনুমতি নেই।
তবু ওর মধ্যেই ছেলেটির মথুরার প্যাঁড়া ভালো লেগেছিল, এক নামভোলা রেস্তোরাঁর সামনে লাফিং বুদ্ধ দেখে অবাক হয়েছিল সেই ছেলে, বাঁদরের উৎপাত সত্বেও তার এখনও ইচ্ছে হয় ছেলেবেলার বৃন্দাবন দেখার, এখনও তার স্মৃতিতে উজ্জ্বল আগ্রার তাজমহল আর তার মার্বেল পোড়া রোদ। তবে সবচেয়ে কাছের হয়ে আছে আজও হরিদ্বার –সন্ধ্যের হর কি পোড়ীর ঘাট, স্রোতস্বিনী গঙ্গার ফেনিল দুধ, জলে ভাসা সারিসারি আগুনফুলের মালা, লজের দরজা খুললেই ঢুকে পড়া গঙ্গা, ঘি-ভাত-পাঁপড়ের অবাঙ্গালী নিরামিষ সনাতনী স্বাদ ... সমস্ত কিছু। এর সবটা সে পেতে চাইছে ফিরে ফিরে।
আরেকটু বড় হয়ে ক্লাস ৭ –এ আশ্চর্য ভাবে তার আলাপ একটি মেয়ের সাথে। কলকাতা থেকে গান শিখে সরাইঘাট এক্সপ্রেসের সাইড লোয়ার বার্থে পা এলিয়ে সে বসে ছিল এক বিকেলবেলা। অতর্কিতে একটি মেসেজ ঢুকে পড়ল ইনবক্সে (সিম সার্ভিসে ফ্রেন্ডশিপ ক্লাবের সদস্য হওয়ার ফল)অঙ্কনা নামের একটি মেয়ের। মেয়েটি তার বোন হয়ে ছিল বাকি দিনগুলো নাকি গার্লফ্রেন্ড, সেটা সে তখন বোঝে নি। আজ অনেকটাই বোঝে। অঙ্কনা থাকত হরিদ্বারে ; বাংলায় ছিল অবাঙ্গালী টান। তবু হিন্দী বিদ্বেষী সেই কিশোরের ওই বয়সে এক কিশোরীর জন্যে যে অনুভূতি হওয়া উচিত, তা অঙ্কনাই তাকে এনে দিয়েছিল। কত দুপুর, কত সন্ধ্যে, কত একান্ত ফোন-মেসেজ-মিস্‌ড কলের অপেক্ষা।
অঙ্কনা , বোন, ভালোলাগার শ্বাস ! এতবার হরিদ্বার এল সে, তোর সাথে দেখা হলনা। যোগাযোগ নেই আর। আজও কি হরিদ্বারে থাকিস তুই? কাকিমার ফার্স্ট স্টেজ ক্যান্সার ধরা পড়েছিল না? বলেছিলি ভালো হয়ে যাবেন? ভালো আছেন? আছেন কি তিনি? আর তুই?
সবকিছু নিয়ে তাই সে আজ এসেছে হু-হু করা বুকের আঁচলে। চোখে পড়ে গেছে তার ট্রেনের বাইরে ক্ষেতের ওপর একাকী অপূর্ব ময়ূর।
এখন সাড়ে ছটা। আর একটা ঘন্টা। রূড়কী এল বলে। হরিদ্বার বেশি দূর নয়।
এসেই পড়েছে।
( ক্রমশঃ)