সারা সকাল জুড়ে বৈঠকি মেজাজ। হবেই তো। আজ পয়লা বৈশাখ। তাই যাদের দিনগুলো থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছে একেকটা সকাল, আর অন্যদিনের মতই, তাদের মাথাতেও চাপল এমন ভূত? কার উদ্যোগে? কার উদ্যমে?
না, ব্যপারটা তাহলে গোড়া থেকেই বলি।
অ্যাক্সেঞ্চারে ঢোকার পর থেকেই আমি ছুটির দুটো দিন একটু অন্যভাবে কাটানোর চেষ্টা করি। নিজেকে সবসময় আশ্বাস দিতে থাকি যে, ছুটি কাটানোটাও একটা আর্ট, একটা জীবনশিল্পের 'ভোলা-বাহুল্য' অংশ। গতকাল বুয়া (অর্থাৎ আমার পিসি) বলছিল সকালে একটু মাংস আনার কথা। যে বাড়ির পরতে পরতে এখনও জড়িয়ে আছে শুদ্ধ বাংলা বলার চল, বাংলা গান, কবিতা, বইয়ের গল্প, কিংবা অযাচিত ভাবে ঢুকে পড়া বাংলা সুপার-ডূপার মেগা সিরিয়ালের শাসন , সে বাড়িতে বাংলা বছরের প্রথম দিনে একটু পোলাও, পায়েস, মাংস – এসব হবেনা, তা হয় না কি? তাই ভেবেছিলাম, পিসি না বললেও আনতে হবেই আজ একটু বাসন্তী পোলাও, ভেটকি পাতুরী – এসব। কলকাতায় আজকাল ভুলে যাওয়া বাঙ্গালীয়ানা ভেজা ‘জিভ-উত্তেজক’ খাবারকে কর্পোরেট মোড়কে available করেছে নানা রেস্তোরাঁ। মন্দ কি? গড়ে উঠেছে কৃত্রিম গ্রাম, লুচি- ছোলার ডালের সাথে ওয়াইনের মৌতাত ভেজা গ্রামীন দোতলা বাড়ি। কড়ি ফেললেই, গ্রাম বাংলা কিংবা সত্তরের দশকের প্রায় বিস্মৃত বাংলা খাবার, পোশাক, গান – সবটাই পরিশ্রম বাদ দিয়ে মিলে যাবে হাতের কাছেই। একবারও প্রয়োজন পড়বেনা সেই সংস্কৃতির বা জীবনের কঠিন থেকে কঠিনতর মুহূর্তের মধ্যে বেঁচে থাকার।
তা যাই হোক, রাতে এসব নিয়েই ভাবছিলাম যখন, ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছিল উত্তেজনায়। আজ সারাদিন বই পড়ে কাটাব, নিজের ঘরে। জানলা দিয়ে দেখে নেব বন্ধু গাছের পাতা, রোদ, লুয়ের বিরুদ্ধে তার নিসস্পৃহ প্রতিবাদ। আমার সকালও কাটবে ওঁদের মত, কিন্ত বিলাস-মনে : দরজায় দাঁড়িয়ে, গ্রিলের ভেতর থেকে রাস্তার লোক দেখে, বিছানায়-বিছানায়, সোফাতে, খবরের কাগজে। বিকেলের পড়ন্ত আলো আমায় জানিয়ে দেবে ওঁদেরই মত, যে দিন চলে যাচ্ছে আরেকটা।
No comments:
Post a Comment